Flavored Ice Cube Recipes | Fruit Juice & Coffee Ice Ideas
গরমের দিনে ঠান্ডা পানীয়ে সাধারণ বরফ দিলে কিছুক্ষণ পরেই পানীয়টা জলো হয়ে যায়, স্বাদও ফিকে লাগে। এর সহজ সমাধান হলো ফ্লেভারড আইস কিউব। অর্থাৎ জলের বদলে ফলের রস, কফি, নারকেল জল বা পুদিনা-লেবুর জল দিয়ে বরফ জমানো। বরফ গললেও পানীয়ের স্বাদ কমে না, বরং ধীরে ধীরে নতুন স্বাদ মেশে। ঘরে থাকা সাধারণ আইস ট্রে আর ফ্রিজ থাকলেই কাজটা হয়ে যায়।
কী কী লাগবে
- প্লাস্টিক বা সিলিকনের আইস কিউব ট্রে (সিলিকন ট্রে থেকে বরফ বের করা সহজ)
- ফলের রস — কমলা, তরমুজ, আম, আনারস বা ডাবের জল
- ঠান্ডা করা কড়া কফি বা লিকার চা
- পুদিনা পাতা, লেবুর পাতলা টুকরো, ছোট ফলের টুকরো (ইচ্ছা হলে)
- ঢাকনাওয়ালা কৌটো বা জিপ ব্যাগ, সংরক্ষণের জন্য
১. ফলের রসের আইস কিউব
টাটকা রস ছেঁকে নিন, যাতে আঁশ বা বীজ না থাকে। ট্রের প্রতিটি খোপ প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ ভরুন, কারণ জমার সময় তরল একটু ফুলে ওঠে। কমলা বা আনারসের রসের কিউব লেবু-জল বা সোডায় দিলে ভালো লাগে। আমের ঘন রস একটু জল মিশিয়ে পাতলা করে নিলে বরফ সহজে বেরোয়। প্যাকেটের রস ব্যবহার করলে আলাদা করে চিনি দেওয়ার দরকার নেই।
২. কফি আইস কিউব
যাঁরা কোল্ড কফি ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এটা সবচেয়ে কাজের। স্বাভাবিকের চেয়ে একটু কড়া করে কফি বানিয়ে পুরো ঠান্ডা হতে দিন, তারপর ট্রেতে ঢালুন। গরম কফি সরাসরি ফ্রিজারে রাখবেন না। পরে গ্লাসে চার-পাঁচটা কফি কিউব দিয়ে ঠান্ডা দুধ ঢাললেই আইসড কফি তৈরি, বরফ গললেও কফির স্বাদ পাতলা হবে না। একইভাবে লিকার চা জমিয়ে আইস টি-তেও ব্যবহার করা যায়।
৩. পুদিনা-লেবু আর ফলের টুকরোর কিউব
প্রতিটি খোপে একটা-দুটো পুদিনা পাতা, লেবুর ছোট টুকরো বা কয়েকটা ডালিমের দানা রেখে ঠান্ডা জল ঢালুন। দেখতে সুন্দর লাগে, অতিথি এলে শরবত বা সাধারণ জলের গ্লাসেও আলাদা ছোঁয়া আনে। জল আগে একবার ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিলে বরফ তুলনামূলক স্বচ্ছ হয়।
৪. নারকেল জল ও তরমুজের কিউব
ডাবের জল সরাসরি জমিয়ে নিন, পরে লেবু-জল বা ফলের পাঞ্চে দিন। তরমুজের রস ছেঁকে জমালে গোলাপি রঙের কিউব হয়, যা বাচ্চাদের পানীয়তে দিলে তারা পছন্দ করে।
জমানোর সময় ও সংরক্ষণ
- সাধারণ ফ্রিজারে জমতে মোটামুটি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা লাগে; ফ্রিজার ও ট্রের মাপ অনুযায়ী সময় কমবেশি হয়, তাই রাতে বানিয়ে রাখাই সুবিধাজনক।
- জমে গেলে কিউবগুলো বের করে ঢাকনাওয়ালা কৌটো বা জিপ ব্যাগে রাখুন, প্রতিটার উপর নাম আর তারিখ লিখে দিন। খোলা ট্রেতে রাখলে ফ্রিজারের অন্য খাবারের গন্ধ ধরে যায়।
- ঘরে বানানো রসের কিউব কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবহার করে ফেলাই ভালো, তাহলে স্বাদ আর গন্ধ ঠিক থাকে।
- একবার গলে যাওয়া কিউব আবার জমাবেন না।
- দুধ মেশানো কিউব আলাদা কৌটোয় রাখুন এবং তাড়াতাড়ি শেষ করুন।
কিছু কাজের টিপস
- ট্রে থেকে বরফ বের না হলে ট্রের নিচে কয়েক সেকেন্ড সাধারণ তাপমাত্রার জল ধরুন।
- খুব মিষ্টি রস ধীরে জমে আর নরম থাকে; সামান্য জল মিশিয়ে নিলে কিউব শক্ত হয়।
- কোন পানীয়তে কোন কিউব: কফি কিউব দুধ বা কোল্ড কফিতে, কমলা ও আনারস লেবু-জল বা সোডায়, পুদিনা-লেবু শরবতে, তরমুজ ফলের পাঞ্চে।
- পার্টির আগে দুই-তিন রকম কিউব বানিয়ে রাখলে আলাদা আলাদা পানীয় তৈরি করতে সময় বাঁচে।
প্রশ্নোত্তর
সাধারণ আইস ট্রে ছাড়া কি বানানো যায়?
ছোট কাগজের কাপ বা মাফিন মোল্ডেও জমানো যায়, তবে বরফ বড় হবে, তাই বড় জগ বা পাঞ্চ বোলের জন্য সেটা ভালো।
কফি কিউবে চিনি দেব কি?
না দেওয়াই সুবিধাজনক। পরে পানীয় বানানোর সময় নিজের মতো মিষ্টি মেশানো যায়।
আপনি কোন ফলের রসের কিউব বানালেন, কমেন্টে জানাতে পারেন।
মন্তব্যসমূহ